| বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট: রাশেদ খানের 'ফ্যাসিস্ট' ও 'আধিপত্যবাদ' বিশ্লেষণসহ ১৯৫০-২০২৫ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-11-2025 ইং
  • 3316999 বার পঠিত
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট: রাশেদ খানের 'ফ্যাসিস্ট' ও 'আধিপত্যবাদ' বিশ্লেষণসহ ১৯৫০-২০২৫ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট

🇧🇩 সংহতি, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব: খালেদা জিয়ার সংকটকালে রাশেদ খানের বার্তা ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন। শনিবার (২৯ নভেম্বর, ২০২৫) দিনব্যাপী তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই নেত্রীর অসুস্থতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর, ২০২৫) মধ্যরাতের পর থেকে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এই সংকটকালে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহল থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ ও বার্তা এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, ড. মির্জা গালিব এবং গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ বিশিষ্টজনেরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

রাশেদ খানের বার্তা: 'ফ্যাসিস্ট সরকারের নিষ্ঠুরতা'

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন এবং তাঁর অসুস্থতার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

"বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ অমানবিক আচরণ ও নিষ্ঠুরতার কারণেই খালেদা জিয়ার এমন শারীরিক অবস্থা তৈরি হয়েছে।"

রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন,

"বেগম খালেদা জিয়া আগামীর বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য, গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন, সংগ্রামের জন্য অনুকরণীয় এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।"

ড. মির্জা গালিবের বিশ্লেষণ: 'মজলুম থাকাই যে ভালো'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিবও শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি লেখেন,

"এরশাদের সামরিক শাসন পরবর্তী জমানায় দুইজন নেত্রী আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রে ছিলেন। খালেদা জিয়া কোনোদিন নিজেরে আরেকজনের নীচুতায় নামান নাই। ক্ষমতায় থাকার জন্য ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাছে নিজের ঈমান বিক্রি করে দেন নাই।" তিনি আরও বলেন, "জালিম হয়ে উঠার চাইতে মজলুম থাকাই যে ভাল; ক্ষমতার দম্ভের চাইতে মানুষের হৃদয়ের ভালবাসাই যে বড়- খালেদা জিয়া তার সবচাইতে বড় উদাহরণ।"

ডাকসু ভিপির বার্তা: ‘আধিপত্যবাদী থাবা’ থেকে মুক্তি

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমও শনিবার (২৯ নভেম্বর) আরেক ফেসবুক পোস্টে একই সুরে বলেন,

"সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদী থাবা থেকে রক্ষা করতে বেগম জিয়ার মতো দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন এখনো বিদ্যমান।"

ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ: আধিপত্যবাদ ও সংগ্রাম (১৯৫০-২০২৫)

রাশেদ খান, ড. মির্জা গালিব এবং সাদিক কায়েমের বক্তব্যে 'ফ্যাসিবাদ' এবং 'ভারতীয় আধিপত্যবাদ'-এর বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থানের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

  • ১৯৫০-এর দশক: আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যাত্রা (১৯৫২): মূলত একটি অঞ্চলের (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান) রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ রোপণ হয়। এই সংগ্রামই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল।

  • ১৯৭৫: আদর্শিক ও ক্ষমতার টানাপোড়েন: ১৯৭৫ সালের পর দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা ধরে রাখা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রভাবের প্রশ্নটি তীব্রভাবে সামনে আসে।

  • ১৯৯০-এর দশক: আপসহীন নেতৃত্ব: সামরিক স্বৈরশাসনের পতনের পর (১৯৯০) বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তার বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অভিযোগ ছিল, তিনি ক্ষমতার জন্য কোনো 'আধিপত্যবাদী' শক্তির কাছে মাথা নত করেননি, যা তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চোখে 'আপসহীন নেত্রী' হিসেবে পরিচিত করেছে।

  • ২০১৪-২০২৪: 'ফ্যাসিস্ট সরকারের' অভিযোগ ও নির্যাতন: রাশেদ খানের অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকার কর্তৃক দীর্ঘ কারাবাস ও অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার কারণেই তাঁর এমন করুণ শারীরিক অবস্থা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন হলেও, দেশের রাজনীতিতে তাঁর অপরিহার্যতার প্রশ্নটি ২০২৫ সালেও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

অন্যান্য বিশিষ্টজনদের বক্তব্য (২৮ নভেম্বর, ২০২৫):

  • প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস: শুক্রবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা।"

  • মির্জা আব্বাস (বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য): শুক্রবার মধ্যরাতে জানান, "বেগম খালেদা জিয়ার জ্ঞান থাকলেও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়... শি ইজ নট পারফেক্টলি অলরাইট।"

চিকিৎসকদের অনুরোধে, তাঁর চিকিৎসার সুবিধার্থে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে হাসপাতালে ভিড় না করার নির্দেশনা বহাল রয়েছে।


সূত্র:

  1. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভস ও গুগল অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ (১৯৫০-২০২৫)

  2. গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট (২৮ নভেম্বর, ২০২৫, শুক্রবার)

  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিবের ফেসবুক পোস্ট (২৯ নভেম্বর, ২০২৫, শনিবার)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency